মহেশখালীতে সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ, দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজির পাড়া ও হরিয়ারছড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারের মূল জায়গা বেদখল হওয়ায় ব্যস্ততম সড়ক ও ব্রিজের ওপর বাজার বসাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে স্কুল-মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য এলাকাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কালাগাজির পাড়া বাজারের পার্শ্ববর্তী প্রায় ১৩ কড়া সরকারি খাস জমি দীর্ঘ দিন ধরে দখলে রেখেছেন হাজী ছৈয়দ কবির নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে আটটি দোকান নির্মাণ করেন। সরকার পরিবর্তনের পরও রহস্যজনক কারণে তিনি স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেননি।
বাজারের নির্ধারিত জায়গা জবরদখল হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ও ব্রিজের ওপর পসরা সাজাচ্ছেন। এর ফলে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাটিতে হাই স্কুল, সরকারি হাসপাতাল ও মাদ্রাসা থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় যুবক সুমনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেরুনতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়ানক মৌজার বিএস ৪৬৪ নং দাগের ০.২৬ একর জমি রেকর্ডীয়ভাবে ‘পথ’ হিসেবে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলদারকে বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক তদন্তে দখলের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে বাজারটি ব্রিজের ওপর বসিয়ে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে সরকারও এই বাজার থেকে বছরে প্রায় ১১-১২ লক্ষ টাকা ইজারা পাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বাজার স্থানান্তর করতে হবে। তারা বলেন, ‘আমরা ব্রিজের ওপর বাজার চাই না, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগ লাঘব চাই।’

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বাজারের সঠিক স্থান নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এবং জনগণের ভোগান্তি দূর করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *